Friday, April 19, 2013

স্বার্থপর তুমি

যেদিন তুমি অন্যের হাত ধরে আমায় চিনতে পারনি-

সেদিন আমি অনেক কিছু বলতে চেয়েও পারিনি। কিভাবে বলতে হতো তাই বুঝিনি। তাছাড়া বলার এতটুকু ইচ্ছেও হয়নি তখন আমার। কিভাবে বলতাম আমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি ভেতরে। সে রাতে তুমি মুঠোফোনে আমাকে বলেছিলে "ভালো থেক যেখানেই থাকো।" আমিও হাসি মুখে তোমার কথা মেনে নিয়েছিলাম। আমি ভালো আছি। ভালোই থাকব আজীবন।

আচ্ছা তুমি কি এখনো আকাশের তারাগুলো দেখো তোমার টেলিস্কোপে? যখন তারাদের দেখো, সবকিছু কি আগের মত দেখতে পাও? কতগুলো তারা তুমি দেখো বলতো? তোমার মনে আছে আমাকে তুমি শিখাতে কোন তারাটা কোনখানে আছে, তাদের নাম অবস্থান সব। আমার মন খারাপ হলে বলতে, "ইতি চল তারা দেখবি।" তুমি আমাকে বলতে ২০ টি তারার কথা কোনোটি খুব উজ্জল কোনোটি একটু কম উজ্জল কোনটি লাল কোনটি নীল, কোনটি সাদা। জানো, এখনো মনে আছে আমার, তোমার প্রিয় তারা হচ্ছে স্বাতী(আর্কটুরাস)। আর আমার ছিল, অভিজিত(ভেগা)। কিছু ভুলা হয়নি আমার আজও। না ভুলে ভুলে আমি কখনো ক্লান্ত হইনি। বলতো কতগুলো তারাময় রাতের ছবি আঁকার পর ক্লান্ত হবে ভান গোঘ আর সাথে আমিও ? আদৌ কি ক্লান্ত হব আমরা?

তুমি যেমন আমাকে অসহায় বানিয়েছিলে একসময়। আমার খুব ইচ্ছে ছিল তোমাকেও অসহায়ত্ব দেখানোর। আমি তা পারিনি। জীবনের কোনো কোনো মুহুর্তে তুমি আমাকে জিতিয়েছ আবার প্রচন্ড রাগে তুমি আমায় হারিয়ে দিয়েছ। তুমি চাইলেই আজীবন আমাকে জিতিয়ে দিতে পারতে। এখন আর এসব বলে কি লাভ বলো? আমার কথাগুলো আজ তোমার কাছে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইটের টুকরো। অথবা দেয়ালে গাথানো একটার পর আরেকটা ইটের আস্তর, তারপর আরেকটা। আমি কোনদিন একটার টুকরোও ভেঙ্গে ফেলতে পারিনি। শুনো আমার কথাগুলো তোমার বাজে গল্প মনে হয়। আমার এই কথার রাজপ্রাসাদে তুমি আসতে চাইলে তুমি এসো। দেখে বলে যেও কেমন দেখোছো তুমি? কোনো কথার মিল খুঁজে পেয়েছিলে কি একটার সাথে আরেকটার?

মনে পড়ে আমাদের দুজনার মেঘনার পারে বসে কাটানো অলস সন্ধ্যা বেলাটুকুর কথা? বিকেলের রোদ দেখতে পারিনি বলে আমার সেকি অভিমান। তুমি পাগলের মত নিজেকে গালি দিচ্ছিলে। আমি মুখ ফুলিয়ে ঘাসফুল দেখছিলাম। হঠাত তুমি পেছন থেকে আমার চোখ বন্ধ করে নদীর পাশে নিয়ে যে দৃশ্য দেখালে তাতে আমার না দেখা বিকেলও লজ্জা পেয়েছিলো সেদিন। আমি অবাক মুগ্ধ হয়ে সূর্যের ম্লানমুখে বিদায় নেয়া দেখি। আমার সেই দেখাও তোমাকে পোড়ায়। তুমি আমাকে দুরে নিয়ে বললে "আমার বিদায় দেখতে ভালো লাগেনা আমাকে দেখ। আমার অর্ধ উন্মিলীত চোখে তাকিয়ে দেখ। আমার এ পোড়া চোখ তোকে ছাড়াতো আর কিছুই দেখেনা। সূর্যের দিকে তাকিয়ে কি দেখিস তুই? তোর তাকানো দু'চোখের পাতায় আর মনিগুলোর মাঝেও তুই এই আমাকে রাখবি। শুধু আমাকে দেখবি।"

আমি চুপ করে হেঁটে চলতাম তোমার পাশে মাথা নীচু করে ঘাসের দলে। আমার ছায়ার প্রতিটি দৈর্ঘ্য মেপে মেপে আমি তোমার পাশে পাশে হাটতাম; তুমি তখন একটু আমায় ছুঁয়ে দিয়ে পুড়িয়ে দিতে আর আমি ঐ পোড়া ঘাসের মতো পুড়তাম ভীষণ সুখে। ঠিক যেমন সূর্য সারাদিন সমস্ত ঘাসদের ছুঁয়ে পুড়িয়ে দিতো।আমি পুড়তাম আর পথ চলতে চলতে একটু থেমে তোমার হাতে হাত বুলাতাম। নিজের ছায়ার পাশে আমারও ছিল একটি আলোর চিড়।

তোমাকে অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে হয়। তোমার বারান্দার হঠাত উড়ে আসা চড়ুইটার কথা। তোমার ঝুল বারান্দার রেলিঙে জড়ানো নিল অপরাজিতার কথা। আচ্ছা তোমার গীটারটাতে কি এখনো আমায় ভেবে মন খারাপ করে টুং টাং করে বাজাও? আমার তো কত কি মনে পরে তোমায় ভেবে। এই এদিকে দেখো। আমার দিকে তাকিয়ে দেখো আমি না বলতে পারার ব্যর্থতায় কিভাবে কষ্টে মরি। বুকের মাঝে দলা পাকিয়ে আসা কথাগুলো কিভাবে শ্বাসরুদ্ব করে দেয় আমার। আমি বলব না তোমায়। কখনো জানতেও দেবনা নিজের বেদনায় কিভাবে আমি ঢেকে রাখি নিজের চোখ, কি করে পুড়ে যাই প্রতিদিন ব্যর্থতার আগুনে। আমার এই নিরবতা আজীবন অচেনা করে রাখবে আমায় তোমার কাছে। আমি পিছু ফিরে চাইনি আমি চাইবনা কোনদিন এ আমার অহং।

-অপরিচিত মানবী
০৪/১৯/১৩

Thursday, April 18, 2013

চাঁদ কুয়াশার অপমান


বিক্ষিপ্ত এই আমি
আবার বিদ্রোহ করছে আমার এ মন
একটা শোকগ্রস্ত পোকা
মাথার চারপাশে ধীরে ধীরে
বাঁধছে এক চিন্তার সুক্ষ জাল
কিছু সময় অজুহাত নিয়ে
ঠিক তখনি সে কাটতে চায়।।

স্মৃতির বাতাসে উড়ছে খই
শূন্যতার পাতায় পরে আছে
কিছু ধুলোর আস্তর
যেন আমি এক অযত্নে ফেলে রাখা
বুকশেলফের পুরনো এক অপঠিত বই।।

প্যাঁচানো কানা গলিটায়
শেওলা রাত নেমে আসে
তারিখেরা হারায় একটুপ,দুইটুপ করে
আর আমি শিকেয় ঝুলিয়ে রাখি
কিছু ক্রমিক পাপ।।

আমি এখন নির্জন অধিবাসী
বহু মধ্যরাতের সমাপ্তির পর
মোমবাতি জ্বালানো শোক নিয়ে
বালকের দৃষ্টি কোনে ঠাই নেব
সে জেগে থেকে দেখবে আমায়
আধখানা ঘুমে ক্রমে অরন্যে
চাঁদ কুয়াশায় অপমানে।।
-অপরিচিত মানবী
০৪/১৮/১৩

আমার ছুটে আসা

যখন আমি কষ্টে থাকি
আর তুমি থাকো ভীষণ অভিমানে
সব কষ্টের হাহাকার ভুলেও
তুমি আমায় কাছে ডেকো
আমি ছুটে আসব তোমার কাছে।।

মধ্যরাতের অন্ধকারে
কিংবা রাতের নিসঙ্গতায়
কখনো মনে পরে যায় আমায়
তুমি আমায় কাছে ডেকো
আমি ছুটে আসব তোমার কাছে।।

কোনো এক জোত্স্না রাতে
নীরব নিথর ব্যথিত মেঘেদের সাথে
শূন্যতা যদি এসে ভর করে
তুমি দু'হাত বাড়িয়ে ডেকো আমায়
আমি ছুটে আসব তোমার কাছে।।

স্নানের পরে অথবা
কখনো পূজোর ঘরে
ভালবাসার ফুল খোপায় গুঁজে দিতে
তুমি দরজা খুলে ডেকে নিও বুকে
আমি ছুটে আসব তোমার কাছে।।

-অপরিচিত মানবী
০৪/১৭/১৩

Tuesday, April 16, 2013

কাঁচপোকা

কাঁচ পোকায় বিরাট চন্দ্রবিন্দু। আমি অন্ধকারে তাকে দেখে বলি সর্বনাশ। তবে কি কাঁচে আলো নেই বলেই পোকার শরীরে কালো বেদনায় আভাস?
-অপরিচিত মানবী
০৪/১৭/১৩

Monday, April 15, 2013

স্মৃতিময় বাতায়ন

বরষায় ঝরেছে কবেকার মেঘলা স্মৃতিময় বাতায়ন আমার
কোন অজানার বিশাল আকাশ হতে থেকে থেকে উঁকি দেয় অতীত আধার||
 

-অপরিচিত মানবী
০৪/১৫/১৩

তারপর একসময়

তারপর একসময় আবার সব হারিয়ে যায়
রৌদ্র গলে গলে পড়ে একটার পর একটা
জানালার শিকগুলোর ফাঁক থেকে
দোতলার বারান্দা দিয়ে ছাদের চিলেকোঠা দিয়ে
খুশি ভরা ফুটপাতের সংসারের থেকেও
রৌদ্র নেমে আসে
আবার তখনি ডুব দেয় সূর্যের মাঝখানে
অনেক মাইল দূরে||
(একটি অসমাপ্ত কবিতা| হয়ত লিখে শেষ করব হয়তবা না)
 

-অপরিচিত মানবী
০৪/১৪/১৩

মা আবার কবে আসবে

সবাই বসে আছে| আমি তাকিয়ে আছি মা'র দিকে| মা আমায় কাছে টেনে চুমু খেয়ে বলেন আমি আসি| আমি স্তব্দ হয়ে মা'র চলে যাওয়া দেখি| আমার মা| যার সাথে জন্ম-জন্মান্তরের সম্পর্ক| আমার জীবনটাকে অচল করে পৃথিবীর এপাশ থেকে অন্যপাশে পিছু না ফিরে হেঁটে চলে গেলো| আমাকে জিগ্যেস করার সুযোগও দিলেন না- মা আবার কবে আসবে তুমি? আমি অপেক্ষায় থাকব আজীবন|
 

-অপরিচিত মানবী
০৪/১৪/১৩