Saturday, November 2, 2013

তুমি পাখী করে নাও আকাশ


রাতের আকাশটা পড়ে আছে গায়ে কালো চাদর আর চাঁদের মতো শুভ্র ধুতি। দেখতে ঠিক আমার বাবার মতো লাগছে। আমার কথা শুনে দাদা হাসে আর বলে মাথায় দোষ হয়েছে তোর। চাঁদটা আড়াল কেনো আজ? তবুও চাঁদটা মেঘেদের দেখায় সত্যিকারের স্বপ্ন। জানালায় দাঁড়িয়ে খোলা আকাশে হাঁটু মুড়ে চাঁদ না খুঁজে বারান্দার বাহিরে গিয়ে দেখলে চাঁদ আরো বেশী তার দুরত্ব কমিয়ে আনবে পৃথিবী থেকে। এসব আমার দুশচিন্তার ফল। আচ্ছা আমার এসব দুশ্চিন্তার অন্যনাম কি হতে পারে? এর কি কোন জাত ধর্ম আছে?

কি বলতে যে কি বলি আমি আজকাল। আমার আসলে এখন আর ঠোঁটেই কথা আটকায়না। আচ্ছা আমি পাখী হলে কি করতাম? লুকিয়ে শেষ রাতে ঝড়িয়ে দিতাম পথিকের চলার পথে আমার সমস্ত পালক। অথবা হয়ত আকাশের সিঁড়ি বেয়ে যখন খুশী তখন উড়ে যেতাম অনেক উপরে। অভিশাপের জ্বরে আরো বেশী আকাশটাকে ছুঁয়ে দেখার বাসনায় উড়ে যেতাম আমি না ফেরার দেশে। আমি মিনতি করছি আমায় তুমি পাখী করে নাও আকাশ।

তপ্ত পিচঢালা পথ

আমি এবার কার শূণ্য ঘরে যাব
কার বাগানে রংহীন ফুল হয়ে ফুটে রইবো
এই ভরদুপুরে তপ্ত পিচঢালা পথ মাড়িয়ে
কার জীবনে রইবো আবার ক্ষনস্থায়ী হয়ে জড়িয়ে।

আমার ভেতরে হযবরল শব্দগুলো ভুগে নিরন্তর মরণ যন্ত্রনায়
আর লিপ্ত হয়ে আছে বিষন্ন সুন্দর এক আল্পনায়
আমি সৌন্দর্য হারিয়ে নিঃশব্দে অন্ধকারে হেঁটে চলি
আড়াল করে রাখি সব শুন্যতা আর স্বপ্নদের দেই বলি।

আমাকে কেউ জানেনি কেউ বুঝতে চায়নি
আমার সাদা কালোর তফাৎ কেউ ধরতে পারেনি
আমি মিথ্যে আশায় একবার নিজের খোলস বদলে ছিলাম
সময়ের দোলাচলে মিথ্যে কিছু প্রহর কাটিয়ে দিলাম
তোমাকে আর ফিরতে হবেনা তুমি ফিরে এসোনা কোনদিন
আমার স্তব্ধ এ পৃথিবীতে
আমি এক অসমাপ্ত কবিতা হয়ে বেচে রইবো চিরদিন।

ভাবিনি এমনটা হবে

আমি ভাবিনি এমনটা হবে
চাইনি এমনটা হোক
আমি চেয়েছিলাম আরো কিছু বর্ষায় মেঘেরা অঝোরে কাঁদুক
আরো কিছু শরতে কাশফুলগুলো শুভ্রতা ঝড়াক
রুপালী রোদের শুদ্ধিমন্ত্রে স্নান করে সুচি হোক একলা মন
ভীষন পূর্নিমায় জোৎস্নারা শূন্যলোকে একা একা ভেসে বেড়াক
চেয়েছিলাম কেউ যেন আবার পৃথিবীর আরন্যসীমা পেড়িয়ে পাড়ি দিয়ে যায় দুধকুমারী নদীর ধারা
কিছুই হয়নি কিছুই হলোনা
গলে যাওয়া অন্ধকারে বিধবা আঁচল ঢেলে দিয়ে রাতজাগা কুকুরেরা চিৎকার করে তাড়াতে পারেনি শূকনের দলকে
হয়ে ওঠেনি সন্তানের লাশ পোড়াবার সময় মা অতি শোকে পাথর হতে
আমি জানিনা আমার লেখা কোন কবিতার জন্য কেউ কান পেতে আছে কিনা
পৃথিবীর অপর প্রান্তে ব্যক্তিগত শহরতলীতে
একটা সাপের মরাদেহ।।

ইতি জেগে আছো?

- ইতি জেগে আছো?
-হুম আছি। আচ্ছা রাত কতো হল বলোতো?
-কি হবে জেনে?
-আমিও একটু ঘুমাবো।
-ভোরের আর দেরি বেশী নেই।
-সত্যিই দেরি নেই?
-কি হবে জেনে তোমার?
-একটা স্বপ্ন দেখব আজ।
-কিসের স্বপ্ন, সুর্যের আলোর?
-উহু, পাখিদের কলরব।
-ইতি, ঘুমিয়ে পড়।
-ঘুম সব ফুরিয়ে ফেলেছি।
-নির্জনতাই খাও তাহলে।
-একটু নুন পেলেই তো তাই সোনামুখে খাই।
-নুন? ইতি তুমি নুন চাইছ?
-না তো, আমার অন্ধকারই ভালো।
- আমি যাই ইতি আমার অনেক কাজ আছে।
-তোমাকে এবার সত্যিই যেতে হবে?
-যেতে তো হবেই, জীবনতো জীবনের গতিতে চলেই একা।

মৌমাছি

মাথা নীঁচু করে ঘাস ছিঁড়ছি
চারিদিকে গজানো ঝোঁপঝাড়
অবিরাম দল বেঁধে আসে
অশান্তির মতো
একা কেন আসেনা
যদি আসতেই থাকে দলবেঁধে
বেহায়া এক জটিলতা
মাথায় মৌচাক বেঁধেছে
মৌমাছি এবার কোথায় বসিয়েছ
জুয়ার আড্ডা???

আজকাল আমার কবিতা লিখতে লজ্জা হয়

আজকাল আমার কবিতা লিখতে লজ্জা হয়
মাঝে মাঝে আমি কবিতা লিখতে পারিনা
মনের মধ্যে এক অপরাধ বোধ জন্ম লয়
এই আমি এতোকাল বেঁচে ছিলাম যাচ্ছেতাই
জীবন দু'পায়ের তলায় রেখে অপমানে
আমি শুধু ভাবি
আমার আর কিছুই করা হলোনা এবেলা ওবেলা
দিনের পর দিন পার হয় রাতের পর রাত
প্যান্ডুলামে সময় থমকে থাকেনা আর
আমি সত্য বলতে আমরন চিৎকার করে বলি
আমি আমার শাদা চুলের পাশ দিয়ে শাদা চুলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি
আমি আমার বেহায়া জন্মের ব্যাপারে কিচ্ছু জানিনা এখানে খাঁটি মানুষ হয়ে বেঁচে থাকা যায় না।

Friday, June 7, 2013

নিয়ন আলোর শহরে

  


আমার দিকে তাকিয়ে তুমি হাসতে,
আর কী আজব দ্যাখো-
আমাদের বাড়ির ওঠোনটা ভোরে যেমন আলোকিত হয়ে ওঠত,
তেমন আলোয় ভরে ওঠত তোমার সারাটা মুখ;
যেন, রূপকথার চাঁদের বুড়ির জাদু কাঠি ছুঁয়ে দিয়ে যেতো তোমার ঠোঁটে চোখে গালে,-
আমার পৃথিবীতে ভোরের পাখিরা তখন দুষ্টুমি আর খুনসুটিতে মেতে ওঠত!
জানো বাবা, এখনো আমার পৃথিবীতে ভোর নামে, পাখি গায়;
বর্ষার স্যাতস্যাতে অথবা শীতের বিষন্ন ভোর। এমন ভোরে পাখিরা গায় শুধু নিদ্রার গান।

তোমার কড়ে আঙুলে আর অনামিকা লটকে থাকত প্রতিটা সন্ধ্যায়,
আমি হাঁটতাম আমাদের বাড়ির সামনের ঘাসে ছাওয়া রাস্তা দিয়ে,
তুমি রাজকন্যাদের গল্প বলে যেতে...
আচ্ছা বাবা, তোমার রাজকন্যারা কি আজো ডাইনীর মায়াবল কাটিয়ে ওঠতে পারিনি? মরে আছে ঘুমন্তপরীতে? রাজপুত্তুররা বুঝি পঙ্খীরাজ উড়িয়ে জিয়নকাঠি ছোঁয়ায় নি তাদের শিয়রে?
অথচ দ্যাখো, তোমার রাজকন্যা, ইতিমণি, বন্দী আজ জীবনের কারাগারে!
তুমি তো জানো, তোমার আঙুলই জিয়ন কাঠি আমার জন্য-
তাদের মায়াবি ছোঁয়ায় আমি বারবার কতবার জেগে ওঠেছি!
দুঃস্বপ্নে তোমার কড়ে আঙুল কত হাতড়াই আরেকবার জেগে ওঠব বলে,
ঘাটের শলাকা, জানালার শিক ছাড়া কিছুই ঠেকে না হাতে!

আমার পৃথিবীটা ছিলো ওয়ার্ল্ড ডিজনীর বাম্বি, পিনোকী, স্নো হোয়াইটদের নিয়ে গড়া রঙিন রূপকথার মতো,
আর আজ, পাশের বাড়ির মুদির দোকানীর পৃথিবীর মত সাদা কালো...
কেননা, বাবা তুমি, আমার শৈশবের রূপকথার জাদুকর,
নিজেই আস্ত এক রূপকথা হয়ে গেছো।
তুমি কী আর সত্যি মানুষ হয়ে জেগে ওঠবে না, বাবা?
আমি এই নিষ্ঠুর নিয়ন আলোর শহরে একাকি ঘুমিয়ে যে আছি!

আমাদের বাড়ির ওপরে আমার নিজস্ব যে আকাশটা আমাকে দিয়েছিলে একদিন,
কতদিন দেখি নি সে আকাশ!
এখন এই ভিনদেশী আকাশ হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের আড়ালে মুখ ভেংচায়;
আমার আকাশের তারার আলোর নিচে বসে তুমি কতদিন রূপকথা শোনাও না!
এখন সারা শহর নিয়ন আলোয় ভরে থাকে,
এত ঝলোমলো শহরে
বেঁচে আছি আমার আকাশের স্মৃতি নিয়ে,
তোমার স্মৃতি নিয়ে।
হয়তো, একদিন এই নিয়ন আলো
চোখে ঠুলি পরিয়ে ভুলিয়ে দেবে আমার রামধনুর আকাশের স্মৃতি!
সেইদিন কর্পোরেট নিরবতা পালন করব কয়েক মিনিট,
এবং, ক্ষমা করো বাবা,
তোমার স্মৃতির ভার আর সইতে পারছি না।
 
-অপরিচিত মানবী
০৬/০৫/১৩

অবেলা বিকেলে


নিষ্প্রাণ উড়ে তীর বেঁধা এক পাখি,
ক্ষয়িষ্ণু তার মন অবেলা বিকেলে
সুখ খুঁজে ফেরে অচলায়তন মনে;
আমি শুধু তারে ছলছল চোখে দেখি।
 

-অপরিচিত মানবী
০৬/০৫/১৩

বাবা চলে এসো তুমি

প্রথম যখন নিউইয়র্কে আসি আকাশে তারা না দেখলে বাবাকে খুব প্রশ্ন করে জ্বালাতাম বাবা বিদেশে তারা নাই কেন? বাবা কিছু বলতেন না। শুধু বলতেন আছে একদিন দেখবি। আমিও বাবাকে আরো বেশী করে ধরে বলতাম বাবা তারা দেখাও তারা দেখবো। বাবা তখনও একই উত্তর দিয়ে বলতেন দেখবি আমি মরে গেলে একদিন। আমি নিজেই তারা হয়ে যাবো। আমি আর মিতি তখন হাসতাম বাবা কি বলে না বলে।

নিউইয়র্কের আকাশ ভরতি তারা আজকে। কাজ থেকে ফেরবার পথেই চোখে পড়লো আকাশ ভরতি তারা আজ। কি সুন্দর আকাশ। আকাশ জুড়ে হাজার তারার মেলা। মেলাতে নানান রকমের তারা পাওয়া যাবে আজ। আচ্ছা বাবা তুমি কোন তারাটা? আমি তারার মেলায় গিয়ে তোমাকে কিনে আনবো মেলা থেকে। বাবা আকাশ তারার মেলায় ফ্রেম বন্ধী হয়ে থেকোনা আমার ঘরে চলে এসো। কোন দূর নক্ষত্র কিম্বা তারও দূরে সীমাহীন, অনন্ত মহাকাশ জুড়ে আমি তোমায় খুঁজি নিঃশব্দের মাঝে অমানিশার অন্ধকারে, সকাল-দুপুর-সাঁঝে। আমার অস্তিত্বে, হৃদয়ে, আর্তনাদে
আমার অহংকারে, গর্বে সবখানে শুধু তুমি বাবা। বাবা চলে এসো তুমি; আমি মিতি আর তোমার ছেলেরা আমরা সবাই তোমার পথ চেয়ে বসে আছি। আজীবন অপেক্ষায় থাকবো।
 

-অপরিচিত মানবী
০৬/০৬/১৩

সুখগুলো

আজকাল সুখগুলো আমার অসুখে রূপ নিচ্ছে| সুখের সব দূর আকাশের কষ্টের বেশে
কান্না হয়ে ঝরে পড়ছে||
 

-অপরিচিত মানবী
০৬/০৬/১৩

সেই পূর্ণিমা রাতে

বার বার ফিরে আসি ফের কোন এক আশ্বাসে
যদি একমুঠো ভালোবাসা পাই জ্যোৎস্না ভরা রাতে
আমি ঝরে ঝরে যাবো আলোর প্রপাতে
যদি বেড়ে যায় লোভ আরো তাতে,
খুলে ফেলে দিবো সব দুঃখ পোষাক
হারিয়ে যাওয়া তিতির পাখীর তুলে রেখে ডানা
আমি পূর্ণ জোছনার আলো হবো সেই পূর্ণিমা রাতে।।
 

-অপরিচিত মানবী
০৬/০৭/১৩

স্বপ্ন পাখি

বন্ধ  জানালাটা দিয়ে আসছে ঝাপসা আলো। অভিভুত প্রত্যাশায় একটা পাখী বিরামহীন উড়ে চলে। আমার তীব্র অভিমান থেকে ব্যাহত হয় তোমার কাব্য আঙ্গুল। নিরুপায় তুমি শুনিয়ে যাও তোমার অপ্রকাশিত কথা। আমার ছায়া বৃত্তের বাহির করে তুমি খোঁজ জল ঘূর্ণির স্বস্তি। তুমি বার বার প্রশ্নের বিকরনে বিকশিত করো কিছু ছায়া অক্ষরদের। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি সোনালি সকাল আর ছায়ায় লুকিয়ে থাকা নীল পরীর গান।

স্বপ্নে স্বপ্নে আকাশে আকাশে আমি স্বপ্ন পাখীর মুখ দেখিনা। ধুলি পথের মাঝে পড়ে থাকে শত সহস্র মানচিত্র ভেদ করা কিছু জলছাপ। ঠোঁটের কাছে কিছু উপচে পড়া নিঃশব্দ বেদনা। আমি তাকিয়ে রই আবার ঘরে ফেরা সংশয়ী কুহকের। দু'চোখ আটকে রয় ইমারত প্রাচীরে। কোথাও কোন দরদী চোখ ফিরে দেখেনা। অভিযোগ করেনা, কথাও বলে না। আমি লিখি বিহ্বল সারি সারি কালো গোটা বর্ণমালা। অবলীলায় লিখে ফেলি আন্তঃনগর দুরন্ত ট্রেনের মতো বিন্যস্ত কাব্য। একটি পঞ্জিকায় যদি আবার দেখা দেয় কোন প্রিয় শতাব্দীর।

পাখী তোমার অজস্র উড়া শেষে একটু ফিরে দেখো একটি অপরাজিতা কি করেব্যথায় নীল হয়ে যায়।

-অপরিচিত মানবী
০৬/০৭/১৩

Tuesday, May 28, 2013

শুনি কিছু দ্রোহের শব্দ


আমি কান পেতে শুনি কিছু দ্রোহের শব্দ শুকনো পাতার মর্মরে
সমস্ত ভালবাসা দুঃখীএক কাক হয়ে উড়ে বেড়ায়
ক্লান্ত উড়ে শেষে থমকে থামে এসে সাগর বেলার প্রান্তরে ।।
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/২৮/১৩

অপূর্ণতায় পূর্ণতা

সকালে কাজে যাবার সময় অন্ময় কোলে এসে বসে পড়ল। 'এখন যে আমার বাবাটা কোলে উঠলো, পিসি কাজে যাবনা?' অন্ময় যখন আরো জড়িয়ে ধরে কোলে শুয়ে ছিল, মনে হলো, বাবা যেন আমাকে জড়িয়ে ধরে বলছে, 'ইতি মনি, এখন শান্তিতে একটু ঘুমাই।'

কাজে বসে কাজ করব কি- ফোন বেজেই চলছে! এর মধ্যে রায়ানা এসে পাশে বসে বলল, 'কালকে ২২শে শ্রাবণ হবে তোর।' আমি মুখ গম্ভীর করে ভাব মেরে বললাম, বুড়ি হয়েই গেলাম? রায়ানা বলল, 'ঠিক বয়েসে বিয়ে করলে দু' বাচ্চার মা হইতি!' বলে কী এই মেয়ে! মজার ছলে খাঁটি সত্যি কথারে বাবা। 'চিন্তায় ফেললি দেখছি!' রায়ানা উঠে যাবার সময় বলল, 'চিন্তা কর।' আমি চিন্তিত হয়ে কিছুই পেলাম না।

আচ্ছা, গত বছর কি আমি জন্মদিনে ঘরে ছিলাম? ধ্যাত্‍ কচু! মনে নাই। কাল আপুকেই জিজ্ঞেস করে নিব। ২১শে তে প্রেম ছিল। প্রেমিক! আরে হ্যা, মনে পড়েছে- সে ছিল বিশাল প্রেমিক। লেখা ছিল তার জীবন আর নারী ছিল তার দুজন। একজন বই মেলায় আরেকজন মুঠোফোনে। আমি গাধী মিনতি করি কথা বলার। হায় পিজা প্রেম হায়! আমি ঘরেই ছিলাম সেবার।

আমি কখনো চাইনি আমার জন্মদিনে কেউ শুভ জন্মদিন বলুক। লোভী মেয়ে তাই আজকে সবচে আপনজনদের (হাসান মাহমুদ ভুস্কার কল) পেয়ে খুশিতে কাঁদলাম। জীবনে এত বড় সারপ্রাইজ কোনদিন পাইনি। আবার বড় ভাই ভোম্বল দাসের বকবকানি ভালবাসা। আহা তার ঢং! 'বুবু, একটা কথা শুনলাম তোর নামে।' মানুষ এত ঢং ক্যামনে করে ভাইয়া? কিঙ্কর আহসান বলছি। অরেও আমি ঢং করে একটু কান্না করে শুনলাম। ভোম্বল ভাইয়া তুই একটা ঢং! ঢংএর চোটে বাঁচিস না। আবার মেহেদী। এই পোলা একটা বেয়াদব। সারাদিন নেটে থাকব আর ঘুমানোর আগে ডাক দিয়ে বলবে, 'তাইরীন'। মন চায় কানের মধ্যে দেই। কি বুঝে সারাদিন আজকে বক বক করে গেল।

এত আনন্দ চাইনি আমি। বাংলাদেশের সময় ভোর রাত ১২টা থেকে মুঠোফোনে চেয়ে আছি। অপেক্ষা। আমার সকাল কেটে বিকেল এলো বিকেল গড়িয়ে রাত পোহালো মুঠোফোনে আর কল এলোনা। আসবে না।

বারান্দায় দুটো চেয়ার। একটা আমি, আরেকটাতে বাবা- পাশাপাশি বসে আছি। বাবার সম্মুখে আমি চেয়ে আছি। পুরোনো সেই হাসি ঝুলিয়ে সামনে বসে আছে। যে হাসিতে পরম নিশ্চয়তা। 'বাবা তুমি ভালো আছ? এবার দেরী করে এলে যে? বাবা এবারের জন্মদিনে বন্ধুরা সবাই ভালবাসা দিল। তুমি কী দিবে?' বাবা গম্ভীর হয়ে চেয়ে আছেন; হাত দুটো চেপে ধরে বললেন, 'তোদের মা ব্যস্ত, রাগ করে না ইতিমনি।'

তাই হবে বাবা। রাগ অভিমান বিসর্জন দিলাম। তবুও তুমি এসো। আমি সব কথা শুনব বাবা। তুমি এসো। অপূর্ণতায় পূর্ণতা এনে যাও বাবা।

-অপরিচিত মানবী
০৫/২৭/১৩

রাত অধীর

রাত অধীর দেখে,
কারো হাসি শুনে শুনে
শুয়ো পোকা থেকে প্রজাপতি হয়ে
অচীন এক সুখ উড়ে চলে যায়
দুঃখ বেদনা নিয়ে দূর অজানায়।
পিছু ফিরে না তাকায়।।
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/২৬/১৩

বৃষ্টি, আমার ধ্রুবসখা

১৬ ঘন্টা কাজ করে এসে ৫ ঘন্টা ঘুমিয়ে উঠলাম। ভালই ঘুম হয়েছে। মাথাটা ভীষণ ধরে আছে। উঠেই কিছু হতাশাজনক এস এম এস পড়লাম। পড়ে হাসছিলাম আর ভাবছিলাম, গতকালই তো শেয়ার করলাম, না জেনে আমাকে যেন কেউ জায না করে। পড়েও অনেকে বুঝতে চায়না। আসলে সে অবুঝ।

চা বানালাম। গরম চা নিয়ে বারান্দায় এসে বসতেই দেখলাম একজন স্প্যানিশ বৃদ্ধা পাশের বাড়ির বারান্দা থেকে আমায় দেখে খুব খুশি হয়ে বললেন, 'শীত কি যাবেনা?' আমি হেসে বললাম, 'শীত তো বৃষ্টির জন্য আবার এলো। নাহয় বিদায় তো নিয়েই নিয়েছিলো।'

মিস হিল্ডা। নিঃসঙ্গ একজন মানুষ। নিজের এই এতোবড় বাড়িতে তিনি তার টাকো বেল কুকুরটা নিয়ে একা থাকেন। উইকেন্ডে তার দু'বন্ধু এসে চা খেয়ে ৩/৪ ঘন্টা তার সাথে সময় কাটান। মাঝে মাঝে আমাকে কল করে তার কিছু গল্প শেয়ার করেন। বেশির ভাগ গল্প তার যৌবনের। কীভাবে তিনি তার স্বামীর প্রেমে পড়েছিলেন।

এককালে ঘরভর্তি মানুষ ছিলো আর আজকে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি
নিঃসঙ্গ।

উফ! কি ঠান্ডা বাতাস! আমি চা শেষ করে ভিতরে চলে আসবো। মিস হিল্ডা বললেন, 'মেয়ে শুনো, তোমার আমার মধ্যে ভীষণ মিল। আর অমিল হলো আমি অনেক ভালবাসা পেয়েছি আর তুমি বঞ্চিত হয়েছ ভালবাসা থেকে!' আমি কিছুক্ষণ স্থির চোখে তাকে দেখলাম। সেজবাবের আশায় দাঁড়িয়ে রইলো। আমি শুধু হেসে বললাম, ভেতরে যাবো ভালো থেকো।

সত্যিই তো বলল মিস হিল্ড। জানালায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখি আর ভাবি- বারান্দা থেকে ওভাবে কেন পালিয়ে এলাম? কার থেকে পালালাম? একজন বৃদ্ধার থেকে নাকি সত্যের কাছ থেকে? সত্যের হাত থেকে পালিয়ে এসেও পার পাব না, জানি, কেও পায় না। আসলে, সত্যটা এত ধারালো ছিল যে তার আকস্মিক আঘাতে মুহূর্ত থমকে গিয়েছিল। এক অপূর্ণতা যেন চোখের সামনে কেউ ঝুলিয়ে রেখে বলছে, 'এই দেখো, তোমার ভেতরের বিশাল দগদগে ক্ষতটা আমি দেখে ফেলেছি!'

বৃষ্টি, আমার ধ্রুবসখা, তোমার কান্নার সাথে সত্যিটাকে ধুইয়ে নিয়ে যাও। প্লিজ...

-অপরিচিত মানবী
০৫/২৬/১৩

অনুভূতির ভুল ব্যাখায়

কখনও কখনও অনুভূতির ভুল ব্যাখায়
ভীষন নিঝুম রাতের প্রহরগুলো
ধূসর হয়ে যায় আমার।
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/২৫/১৩

আকাশ দুয়ার খুলে

আমি আকাশ দুয়ার খুলে দিয়ে
মেঘের পানে হাত বাড়িয়ে
পথ পানে আছি চেয়ে!!!
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/২৫/১৩

অথবা কিছুই শুরু হয়নি

হয়ত সব শেষ হয়ে গেছে অথবা কিছুই শুরু হয়নি,
সমুক্ষে অন্ধকার আর অল্প আলোর রশ্মি
আমি বুঝে নেই এ এক অদ্ভুত দৃশ্যসম্পাত।।
আমি গচ্ছিত রাখি তোমার সব স্মৃতি আর অতীত জোনাক
হয়ত একদিন শেষ হবে অন্ধকার রাত, আবার হবে শুরু নতুন প্রভাত ।
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/২৫/১৩

তুমি ভালো থাকো

তুমি ভালো থাকো বলবো না তুমি সবসময় ভালো থাকো। এসব হঠাত মনে হওয়া অনুভুতি। আমার বুকের মাঝে অবহেলায় পড়ে থাকা কিছু দীর্ঘশ্বাস আর হাহাকার। ভালো থেকো নীল আকাশের চিল ভালো থেকো তুমি।
 

-অপরিচিত মানবী
 ০৫/২৪/১৩

'তুমি' এমনই এক বিষাক্ত পাখির নাম

আকাশ ভরা জোছনা দেখে একমুঠো আলো চেয়েছিলাম।সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলে দিয়াশলাইয়ের কাঠিতে আগুন ধরিয়ে ঠোঁটে করে আমার দিকে এগিয়ে দিলে, বললে,
'ভাত রাঁধো আগে।'

সেই থেকে জোছনার সাথে কথা হয় না, 'তুমি' এমনই এক বিষাক্ত পাখির নাম।
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/২৪/১৩

আমি

আমি নিজেকে শুধরে নিতে চাই| মিথ্যায় ঘর গড়তে চাই|
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/২৩/১৩

তুমি ফিরে আসো মা


যাবার আগে মা হাতের ব্যাগটি দেখিয়ে বলে গিয়েছিল, ব্যাগ ভরে খুশী নিয়ে আসব, 'তুই বসে থাক; তারপর একে একে সবগুলো খুশী তোকে দিয়ে দেব... খুশীদের পেয়ে আবার ভুলিস না আমাকে যেন।'

সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা চলে আসে তবুও মায়ের চাবির গোছার ঝনঝন শব্দ শোনা যাচ্ছে না কেন? ঝাপসা চোখে যতদূর চোখ যায় শুধু রাত্রির ঘন ছায়া, তোমার ছায়া নজরে আসে না কেন? খুশীকে পেয়ে আমি তোমাকে ভুলে যাব কিনা বলেছিলে; আজ তুমিই দেখি খুশী আনতে গিয়ে আমাকে ভুলে গেছো। দরকার নেই আমার খুশীর, তুমি ফিরে আসো মা...।।

-অপরিচিত মানবী
০৫/২৩/১৩

শৈশবের ঘ্রাণ এবং কথিত বন্ধু


কালচে রঙের বাসটার ঠান্ডা কাঁচে মাথা ঠেকিয়ে বাইরের শপগুলোর দিকে ইতিমণি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। বাইরে পড়ন্ত বিকেলের রূপ ঝরে পড়ছে। এই শহরের সবাই কী যেন এক ব্যস্ততায় সবসময় ছুটতে থাকে। একটু আগে লালমুখো এক বাচ্চা মায়ের হাত ধরে শপে ঢোকার সময় তাদের বাসের দিকে কচি আঙ্গুল তুলে মাকে কী যেন দেখাচ্ছিল। মা তাকে পাত্তাই দিল না, দৃষ্টির সামনে থেকে দ্রুত কোথায় যেন মিলিয়ে গেল তারা। আচ্ছা, বাচ্চাটি ওমন করে আঙুল তুলে কী দেখাচ্ছিল? নিউ ইয়র্কের কমলালেবুর মতো হলদেটে আকাশের নিচ দিয়ে বাসটি কখন যে বাড়িমুখো চলতে শুরু করেছে এতক্ষণ সে টেরই পায়নি। কাঁচে ঠেকিয়ে রাখা মাথা কয়েকবার ঝাঁকুনি খেলে কপালের চামড়ায় টান পড়ে আর সাথে সাথে টের পায় বাইরের দোকানপাট মানুষজন দ্রুত সরে সরে যাচ্ছে। মাথাটা তুলে পেছনের সিটে হেলান দিতেই খেয়াল করল কাঁচের যে জায়গাটায় নাক গিয়ে ঠেকে ছিলো সেখানটা শীতের ধুয়ো ওঠা নিঃশ্বাসে সাদা কুয়াশা ঘন হয়ে আটকে আছে। সেখানে সে মধ্যমা আঙ্গুল দিয়ে আস্তে করে লিখে দিলঃ
F**K FRIENDSHIP!

শীতের নিস্তেজ রোদ আদুরে বেড়ালের মত বাসের জানালা টপকিয়ে ইতিমণির কোলে এসে পড়ছে। সেদিনও এমন রোদ ছিল কিনা ঠিক মনে নেই, খুব সম্ভব, কড়কড়ে রোদ ছিল। তার মা কী এক কাজে মার্কেটে চলে গেলে সে আর স্কুলে যায় না। বরং সুমিয়াকে সাথে নিয়ে মিরপুরের মুড়ির টিন খ্যাত বাসে করে বেড়াতে যায়। এত লোক আর কোলাহলের মাঝে দুই সখীর সাদা মোজাপড়া আনন্দে উচ্ছ্বসিত দুটি পা ঝুলতে থাকে। হঠাত্‍ কার যেন হাতের স্পর্শে পেছন ফিরে তাকালে সাদা মোজার পা দু'জোড়া থমকে যায়। ঠোঁট শুকিয়ে ফেলা ভৌতিক শব্দের মত একটা আওয়াজ তার কানে ডুকে মাথা ঝিম ধরায়ঃ
'বাড়ি চল!'

কী রকম পাগলামো ভরা দিনগুলোই না ছিল ছেলেবেলাটা, এখন ভেবে হাসি পায়। এই যেমন, মা যখন তাকে ওমন পাকড়াও করে বাড়ি নিয়ে যায়, সুমিয়া এইটুকু বয়সেই কী বুঝে সারা রাস্তা একটা কথাও বলে না। অন্য রুম থেকে ইতির ভয়ার্ত কান্নার শব্দ শুনে দৌঁড়ে গিয়ে ইতির মাকে জড়িয়ে ধরে বলে, 'ওর বদলে আমাকে মারুন আন্টি।' সেদিন মায়ের মারের ব্যথায় যত না চোখে জল এসেছিল তার থেকেও বেশি জল গড়েছিল সুমিয়ার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে থেকে। আর বেচারা শুভ, যে কিনা মার শাড়ি পড়ে আমাদের পাঁচ বান্ধবীর মত মেয়ে সাজতে পেরে কী খুশিই না হত! মেয়ে সেজে খুশি হবার মত বোকাসোকা হলেও আমরা কিন্তু খুব মজা করতাম। আজো ইতির স্পষ্ট মনে আছে, সেদিন বাসায় কেউ ছিল না; এই সুযোগে শুভর দিকে চোখ নেড়ে নেড়ে সে তার সাথে ছাদে যাবে কিনা জানতে চায়। ওরা যখন ছাদের কার্নিস ঘেঁষে দাঁড়ায় শুভ চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস যে, ওরা যদি পড়ে যায় তখন কী হবে? কোনো ভাবনা চিন্তা ছাড়াই ইতি নিশ্চিন্তে বলে দ্যায়, 'কেন বোকা, তুই বাঁচাবি আমাকে আর আমি তোকে!'

এখন বুঝি ঢাকা শহরটা উঁচু উঁচু কর্পোরেট বিল্ডিঙে ছেঁয়ে গেছে? এক টুকরো আকাশ দেখার জন্য অনেক কষ্টে নাকি দৃষ্টিকে অনেক দূরে ছুঁড়ে দিতে হয়! দালানের আড়ালে সূর্য ওঠে আবার আড়ালেই ডুবে যায়! তখন তো এত ধুঁয়ো আর এত উঁচু উঁচু দালান ছিল না। বরং ঢাকার আকাশেও ঘুড়ি উড়ত; সেদিনও উড়েছিল। একটা ছেঁড়া ঘুড়ি শুভদের ছাদের দিকে উড়ে আসতে দেখে খুশিতে লাফাতে লাফাতে সিঁড়ি ভেঙ্গে নিচে নেমে যায়। একা ছাদে ইতি একদম কার্নিস ঘেঁষে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাস্তার মানুষজনের চলাচল দেখতে থাকে। ছাঁদের উপর থেকে গাছপালার মাথা দেখার আলাদা একটা মজা আছে। নিজেকে এখন তার দুনিয়ার সবার থেকে বড় মনে হচ্ছে। শুভ সিঁড়ি ভেঙ্গে কিছু দূর নিচে নেমে আবার কী ভেবে যেন দৌঁড়ে ছাঁদে ফিরে আসে; ঘুড়ির আশা ছেড়ে দিয়েছে বোধহয়।

'এইইই তুই ওখানে ক্যান?' ওহ... তাই তো, এখানে যে সে কেন তা ভেবেই পায় না। এই যা, একটু হলেই তো পড়ে যেত! দৌঁড়ে গিয়ে শুভ ইতিকে জড়িয়ে ধরে আর পাগলের মত তার সে কী কান্না!
না, সেই রাত্রের কথা আজো ভুলে নি ইতি। দুইদিন জ্বর থাকাতে স্কুলে যায়নি। আর কোথা থেকে খবর পেয়ে রাত্রেই এই টুকুন মেয়ে, সুজানা, মিরপুর ১০ থেকে মিরপুর ১১ তে ছুটে গিয়েছিল। সেইদিন ইতির কী যে ভালো লেগেছিল যেন অর্ধেক জ্বর তার সেরেই গিয়েছিল!

২.

 নিউ ইয়র্কের রাত্রির নিয়ন আলোয় ব্যস্ত মানুষগুলোর দিকে তাকাতে আজকাল ভয় পায় সে। এত এত ব্যস্ততা, এই যে অন্ধের মত ছুটে চলা- এইসব যেন কী এক ধ্বংসের ইঙ্গিত বয়ে বেড়ায়। এই ব্যস্ততায় তার বন্ধুরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ছেলেবেলায়, বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে, কারোর ব্যক্তিগত কোনো জীবন ছিল না; এখন প্রত্যেকের একটা করে ব্যক্তিগত জীবন তৈরী হয়ে গেছে। সবাই তাদের ব্যক্তিগত জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইতি তাই একাকিত্বের অতল সাগরে বিশাল বড় জাহাজের একমাত্র নাবিক এবং যাত্রী হয়ে শূণ্য চোখে সামনে তাকিয়ে থাকে।... কতক্ষণ ধরে যে বাস চলছে ঠিক ঠাহর করতে পারছে না ইতি। রোদ এখন তার কোল ছেড়ে বেশ দূরে সরে গেছে। শূণ্য চোখে ইতি বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকে, কী এক অদ্ভুদ ভাবনায় ডুবে থাকে, বাইরের কিছুই আর খেয়ালে আসেনা।

অন্তর্জালে পরিচয় হওয়া বন্ধুদের আন্তরিকতায় সে বেশ মুগ্ধ হয়। ভাবে, এত অল্পতে এমন আন্তরিক বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপারই বটে। নিজেকে ভাগ্যবতী ভাবতে থাকে। স্কিনের অপর পাশে থাকা কথিত আন্তরিক বন্ধুগুলো চোখ কচলে ইতির প্রোফাইল নামটি দেখতে থাকে। ইতিমণি জানে না, মানুষ কী চমত্‍কার বন্ধুত্বের অভিনয় করতে পারে! সে মনের মত বন্ধু পেয়ে গল্পের ঝুড়ি নিয়ে বসে। কত কত কথা জমে আছে তার। কাজের ফাঁকে, ক্লাশের টিফিনে, ঘুমের আগে, রান্নার মাঝে- শুনিয়ে যেতে থাকে গল্পের পর গল্প। কথিত বন্ধুটির কথাও অবশ্য সে মনোযোগ দিয়ে শুনে। মনের মত বন্ধুর কাছে জমানো একাকিত্ব বিষন্নতা সুখী হবার অনুভূতি- এইসব শেয়ার করতে পারেনি বলে কী যে মন খালাপ করে থাকত! বালিকার মত উছ্বাসে সে গল্প বলে যায়। কথিত বন্ধুটি গল্পগুলো শুনে; মাঝে মাঝে চুক চুক আহারে...করে, মজার মজার কথা শোনায় ইতিকে। এইসব আন্তরিক বন্ধু পেয়ে ইতি নিজেকে খুব সুখী ভাবতে থাকে। অপরপ্রান্তে, কথিত বন্ধুটি মিটিমিটি হাসে। একদিন ইতিমণির প্রায় সমস্ত পেটের কথা জেনে যায় সে অথবা তারা। কিছুদিন পর ইনিয়ে বিনিয়ে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে তার অথবা তাদের সমস্যার কথা ইতি বান্ধবীর কাছে শেয়ার করার নাম করে পরোক্ষভাবে HELP চায়! কথিত বন্ধুর সাংকেতিক কথা শোনে, বুঝতে পারে তার সমস্যার কথা। না দেখা বন্ধুটির প্রতি মমতায় ভরে ওঠে তার মন, 'আহা বেচারা!' নির্দ্বিধায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দ্যায় সে। বন্ধুটি খুশি চাপা রেখে মনে মনে বলে ওঠে, 'মিশন সাকসেসফুল!' চোখে মুখে তার সুখের ঝিলিক কল্পনা করে ইতিমণি তৃপ্তিতে সে রাতগুলোতে ঘুমোতে যায়। বন্ধুটি রাত জেগে দিন জেগে আগের মতোই সঙ্গ দিতে থাকে অথবা বন্ধুত্বের অভিনয় করতে থাকে তার সাথে...তারপর একদিন যখন কথিত বন্ধুটি বুঝতে পারে, এর বেশি আর মেয়েটি তার জন্য করতে পারবে না, তারপর থেকেই আস্তে আস্তে বন্ধুত্বের আন্তরিকতা কেমন যেন ফিকে হতে থাকে! বন্ধুত্বের হারমোনিয়াম আর বাজে না, যেটা কিনা সম্প্রতিও কীসব বিচিত্র সুরে মোহিত করে রাখত। ইতি আসল ব্যাপারটা একদিন বুঝতে পারে এবং অনুভব করে মানুষের প্রতি নির্মল বন্ধুত্বের আস্থা হঠাত্‍ করে পম্পেই নগরীর মতো ধ্বসে গেছে। নিজেকে অতল একাকিত্বের সাগরে পুনরায় আবিষ্কার করে...

সে তার একাকিত্বকে ভরিয়ে তোলার জন্য সামান্য আগ বাড়িয়ে হলেও বন্ধুত্বকে দৃঢ় করত; আর এটাই কিনা তারা তার দূর্বলতা ভেবে বসত; ভাবত, মাইয়া বুঝি পটে গেল! বন্ধুত্বকে প্রণয় লিপ্সা ভেবে তাকে বগলদাবা করার অপেক্ষায় থাকে... একসময় তারা হতাশ হয়ে কেটে পড়ে!

তার এবং তাদের কথা ভাবতেই বমি চলে আসে তার। দৌঁড়ে বাথরুমে গিয়ে বেসিন ভাসায়।

৩.

বাস থেকে নেমে ক্লান্ত বিষন্ন ইতিমণি বাসায় ফিরে। চোখে মুখে পানি দিয়ে আয়নায় সামনে দাঁড়ায়। পেছনে তার ছায়া ছাড়া আর কাউকে খুঁজে পায় না। ছায়ার দিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। খুব করে শৈশবে ফিরে যেত ইচ্ছে করছে তার। ময়লা বাস, মায়ের শাসন আর বন্ধুদের নির্মল হাসি, তাদের কাঁধে কাঁধ ঠোকাঠুকি করে শৈশবের রাস্তায় হাঁটতে ইচ্ছে করছে; যেখানে কারোর কোনো ব্যস্ত সমস্ত ব্যক্তিগত জীবন নেই। সবাই মিলে এক। মন আনমনে গেয়ে ওঠে-

বন্ধু তোমার চোখের মাঝে চিন্তা খেলা করে
বন্ধু তোমার কপাল জুড়ে চিন্তা লোকের ছায়া
বন্ধু তোমার নাকের ভাঁজে চিন্তা নামের কায়া
বন্ধু আমার মন ভালো নেই তোমার কি মন ভালো
বন্ধু তুমি একটু হেসো একটু কথা বল
বন্ধু আমার বন্ধু তুমি বন্ধু মোরা কজন
তবুও বন্ধু মন হলনা আপন
বন্ধু আমার বুকের মাঝে বিসর্জনের ব্যথা
বন্ধু তুমি ওমন করে যেও না আর একা
বন্ধু এস স্বপ্ন আঁকি চারটা দেয়াল জুড়ে
বন্ধু এস আকাশ দেখি পুরোটা চোখ খুলে
বন্ধু এস জলে ভাসি বুক ভাসানোর সুখে
বন্ধু তোমার বন্ধু আমি বন্ধু মোরা কজন
তবুও বন্ধু ভাসি নাকো আঁকি নাকো স্বপন।

থাক, ছেলেবেলার বন্ধুরা কচি ঘাস হয়ে বুকের বামপাশে। ইচ্ছে হলেই, স্মৃতির বাগানে হেঁটে বেড়াবে আর নিঃশ্বাস ভরে শৈশবের ঘ্রাণ নেবে সে। কিন্তু, সে বুঝে গেছে পেছনের ছায়াটিই তার একমাত্র বিশ্বস্ত সারা জীবনের বন্ধু!

আজীবন অনন্তকাল

সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখলাম সকাল ৭.৩০ এর ক্লাস কেনসেল| খুশিতে উঠে বসে ফেসবুকে বসে গেলাম খেলতে| রাতে ঘুম না হবার কারণে আবার চোখ লেগে এলো| বড়দা কাজে যাবার সময় দেখলেন ঘুমাচ্ছি| ঘুমের মধ্যে অনুভব করি কে যেন আমার চুল ধরে হালকা টান দিচ্ছে| আমি ভাবলাম বাবা| চিতকার করে দাদা কে বললাম বাবা চুল টানো কেনো? দাদা কানে ধরে উঠায়ে বসিয়ে বলেন চুল না নে কানে ধরেই উঠালাম| ক্লাসে যাবে কে? আমি দাদার কথার জবাব না দিয়ে তাকিয়ে রইলাম দাদার দিকে| শুধু তাকিয়ে বললাম ওহ তুই? আমি ভাবলাম বাবা| দাদা আমার মাথায় হাত বুলায়ে বললেন জলদি রেডি হ|
ঐ অতটুকু মাথায় হাত বুলানতেই অবিকল বাবার স্নেহটুকু খুঁজে পাচ্ছিলাম অনেক| আমার বড়দাই আমাদের সব ভাইবোনের বাবা হয়ে বেচে থাকুন আজীবন অনন্তকাল|
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/২১/১৩

আমার অস্তিত্ব ও শূন্যতা।

হাজার মানুষের ভীড়ে থেকেও মানুষ খুঁজে ফেরি আমি। আমার এ একা একা দীর্ঘ পথ চলা, জীবনানন্দের সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে। আর আশার নিঃস্বতায় স্মৃতি জাগানিয়া শৈশব এসে নিয়ে যায় মেঘ ভ্রমণে। সেখানে ছেলেবেলা ঘুরে ঘুরে উরে বেড়ায় রঙ্গীন প্রজাপতি হয়ে। কখনোবা বিষণ্ণ দুপুরের বেলাশেষের সূর্যাস্তের মতো বিদায় নেয় সমুদ্রে। স্কুলের উঠোনটা আজকাল ঝরা পাতায় জমাট বেঁধে আছে । সেখানে কখনো কখনো ঠান্ডা বাতাস বয়ে যায়, আবার মাঝেমাঝে বৃষ্টিও। ঝুমবৃষ্টি ঝরে পড়ে রাত ভর। আমার আমি কে আর সেই ছেলেবেলায় ফিরিয়ে নিতে পারিনা। বিচ্ছিরি বাস্তবতার মাঝে পোড়ে এ মন।

এখন আমি অনেক বড়। একা চলি একা ফিরি। এই শহরে খালি পায়ে একা চলি একা হেঁটে যাই, পরিচিত কারো মুখ খুঁজি। ভাবি, হৃদ্যতার বোধে কেউ হয়তো হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলবে, আরে তুমি নন্দিনী? পরিচিত শহরে আমি নিঃসঙ্গ হাঁটতে থাকি। আমার ভীষন চেনা পথে হেঁটে হেঁটে বন্ধ খাঁচার মতোন শাদা দালানগুলো দেখি, শহরের পুকুরগুলো ভরাট করে তৈরি করা ঘিঞ্জি মানববসতি দেখি। নক্ষত্রহীন আকাশ দেখি। আবিষ্কার করি, এ আসলে আমারই অবহেলিত আকাশ। আমি নিজেই বদলে গেছি।আমার শেকড় অবশিষ্ট নেই খুব বেশি। অনেক দিন ভেবেছি স্মৃতিদের আমি মুছে দিতে চাই কোনওভাবে। চেনা শহরের ভীনদেশী আকাশে নতুন স্বপ্নের পেছনে আমিও ছুটতে চাই। বাঁচতে চাই এক নতুন নিয়মে।
আমি বেঁচে থাকি আর বেঁচে থকবো এক নির্লজ্জের মতো। আগামীকাল , আগামী মাস কিংবা আগামী বহুবছরও হয়তো বেঁচে থাকবো। ভেবে পাই না, আসলে কী করা উচিত। আমি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে উঠি, আমি তুচ্ছ থেকে তুচ্ছতর হয়ে যাই। আমার কানে বাজে সেই গান

- যে হয়ে গেল কালো, নিভে গেল দ্বীপের আলো, আকাশ-পানে হাত বাড়ালেম কাহার তরে?
-অপরিচিত মানবী
০৫/২০/১৩

ভালো লাগে স্বপ্ন

স্বপ্নদের শুধু ঘুমের মধ্যেই ভালো লাগে কারণ তার সাথে বাস্তবের কোথাও কোনো মিল থাকেনা যে।
 

-অপরিচিত মানবী

মেঘ হবো না রোদ হবো

মেঘ হবো না রোদ হবো
আমাকেই ভাবতে দাও।
কাছে থাকবো না দূরে রবো
আমাকেই ভাবতে দাও।
এখন শুধু আমি আমি
তুমি তুমি
তুমি আমি আর আমি তুমি নও
আমি গড়তেও পারি
তেমনি পারি ভাঙতে।
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/২০/১৩

পৃথিবীর কিশালয়ে ঘুরে আসো

জ্যোৎস্নার কিছু আলো মেখে নক্ষত্ররা গেছে পুড়ে মধ্যরাতে
সারারাত পাতা ঝড়ে পড়েছে বাতাসে
হয়তোবা হৃদয়ের আলো পেলে তারাও সবুজতা পেতো
অন্ধকার সে রাতে একটা পাখীর পালক খসার শব্দ ভাসে
দুর থেকে মনে হয় নক্ষত্রেরা খসে পড়ে
ওলোট পালোট পড়ে আছে আজ আমার উঠান।

এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমি এক নক্ষত্র খামারে নবান্নের দিন ।
পৃথিবীর সমস্ত রঙ্গিন পর্দাগুলি উড়িয়ে নিয়ে যাবো
বুনে যাবো শেফালির চাড়া
গোলাবাড়ি থেকে কিছু দূরে রবে সূর্যপাড়া
এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমার ফেলে আসা ধূসর বাড়ীতে।

যদি কোনদিন কোনো পৃথিবীর কিশালয়ে ঘুরে আসো
যদি কোনো ভাঙ্গা জানালার আলো
দেখে যেতে চেয়ে থাকো কারো ঘরের ভেতর
আমাকে যাবার আগে বলো তাও নেবো সঙ্গে করে ।

ভুলে যেয়োনা তুমি আমাদের উঠানের কাছে
অনন্ত কুয়ার জলে এক বেওয়ারিশ চাঁদ পড়ে আছে ।।
-অপরিচিত মানবী
০৫/১৯/২০১৩

সপ্ন দেখা

সপ্ন দেখা আর বাস্তবতা এক নয়। স্বপ্ন দেখব আজীবন। স্বপ্নে আমার মন চলে যায় আকাশে, পাহাড়ে, নদীতে বা সাগরে। আবার সেই মনকে নিয়ে আসি নিজেরই অন্তরে নিজের আয়ত্তে। মনকে আমি কখনো কখনো নিজের নিয়ন্ত্রণে ধরে রাখতে পারিনা। স্বপ্নেও কি পারি? বাস্তবটা এতো কঠিন কেনো?
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/১৮/১৩

বাচাবার প্রত্যয়

আমি নিজেকে শুদ্ধ করতে পারব না।
এভাবেই সারাজীবন চলবে।
এলোমেলো হতাশায় আর শুদ্ধিকরণ হবে না।
হয়তবা একদিন শুদ্ধ হব ধীরে ধীরে।
আর এ যেন হতাশার ডুবন্ত জাহাজের মত নিমজ্জিত আমার মনকে
আমি বাচাবার প্রত্যয় দেখাচ্ছি সন্তপর্নে|
 

-অপরিচিত মানবী
০৩/২০/১৩

স্বপ্নরা বেচে থাকে

আজকাল মিথ্যে স্বপ্ন দেখে বেচে থাকার অনুপ্রেরণা মনে জন্মাচ্ছে| মিথ্যা স্বপ্নরা যে হারাচ্ছে না সেটাই বেশি জরুরি| তবুও স্বপ্ন
দেখি তবুও স্বপ্নরা বেচে থাকে|
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/১৭/১৩

দূর আকাশে


দূর আকাশে আধখানা চাঁদ
চাঁদের গায়ে গা লাগায়ে
মেঘ রাতে আর হয়না হাঁটা|

আমার ভালবাসার আধখানা চাঁদ
একলা পথে হাতটি ছুঁয়ে
তার সাথে আর হয়না কথা|

চোখভর্তি শুকতারা আর
বুকভর্তি তার জ্যোৎস্না মেলা
হাত বাড়িয়ে ছুঁতে গেলে
এই আমি আসছি বলে
মন ভুলিয়ে যায় চলে যায়
অন্ধকারে অবহেলে||

-অপরিচিত মানবী
০৫/১৭/১৩

জীবনের অনেকটুকু

কিছুই দেখা হলো না জীবনে। জীবনের অনেকটুকু দেখা এখনো বাকী পড়ে আছে।
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/১৬/১৩

দুটো ডানা

আমি একটা অক্ষম পাখী যার দুটো ডানাই ঈর্ষান্বিত।
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/১৭/১৩

কল্যাণ লাভ হয়?

আচ্ছা সুখময়, চিন্তাভাবনাহীন, অন্বেষণহীন ব্যাকুলতা ও চেষ্টাহীন জীবনে কি কোন কল্যাণ লাভ হয়?
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/১৪/১৩

তীব্র জ্যোৎস্না

যতক্ষণ ঘরে আলো জ্বলে কিছুতেই আমার ঘুম হয় না। ছোট বোনের পরীক্ষা। নোট হাতে নিয়ে বসে গুন গুনিয়ে পড়ছে। পাশের ঘর হতে মৃদু শব্দে গান ভেসে আসছে। আমার বড়'দা নজরুলের 'পথ চলিতে যদি চকিতে' শুনছেন। গানটা আমারও ভীষণ প্রিয়। গরম শুরু শুরু ভাব। আমি পানি হাতে বারান্দায় চলে এলাম। রাতটা এমন কেন? যত বাড়ে ততই চারদিকের সব ছোটখাটো শব্দও স্পষ্ট হয়ে উঠে।

বাহ কি তীব্র জ্যোৎস্না আজ। তার দুধের মত ভীষন সাদা ফকফকে আলোয় বিস্তীর্ণ আকাশের ওপর একটা চাদরের মত ছড়িয়ে আছে চারিদিকে। একটুকু ঠাণ্ডা বাতাস এসে আমার পুরো শরীর ও মন ছুয়ে দিয়ে যায়।

আমি যেখানে থাকি সেখানে সব বাঙালীরা চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ছিমছাম এক ছোট্ট এলাকা। কয়েকটা ছোট ছোট প্রাইভেট বিল্ডিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে উঁচু উঁচু নাম না জানা গাছের উঁকিঝুঁকি। দ্রষ্টব্য স্থান বলতে সামনের ঐ ছোট্ট পার্কটা। চারপাশের তীব্র জ্যোৎস্নায় নিস্তব্ধ গাঢ় অন্ধকারে দাঁড়িয়ে হঠাত একটু ভয়ে স্নায়ু কেঁপে উঠে|কি যেন দ্রুত পার্কটার এপাশ থেকে ওপাশে দৌড়ে চলে গেল| তাকিয়ে বুঝলাম আরে ধুর! কিছুই না| একটা কালো বিড়াল নিঃসঙ্গতার মতো একাকী চুপি চুপি হেঁটে চলেছে|

আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখি জোছনা দেখি আর নিঃসঙ্গ রাতকে দেখি| আর ভাবি আচ্ছা হঠাত কোনদিন থেমে যায় যদি এ জীবন? কোথায় যেন অস্কার ওয়াইল্ডের একটা কথা পড়েছিলাম, "দা বুক অফ লাইফ বিগিনস ইন এ গার্ডেন, এন্ড এন্ডস ইন রিভিলেশনস|" সত্যিই তো এইতো সবে জীবনের শুরু| আর এখনই যদি থেমে যাবার কথা ভাবি, তবে কি চলবে?
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/১৪/২০১৩

অধিকার

আমাদের নিজের উপর কোন নিয়ন্ত্রন নেই। আমরা ইচ্ছা করলেই অন্যের উপর নিয়ন্ত্রন করার অধিকার দেখাতে পারি। নিজেদের নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা ঈশ্বর মানুষকে দেননি বলেই হয়তো অন্যের উপর আমরা অধিকার খাঁটিয়ে বেড়াই। সম্পর্ক গভীর হলেই কি অধিকার চলে আসে?
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/১৪/১৩

মানুষের মন

মানুষ বিচিত্র নয়| মানুষের মন ও বিশ্বাস বড়ই বিচিত্র| একবার কোনভাবে ভেঙ্গে গেলে শত চেষ্টায়ও তা জোড়া লাগানো যায়না|

আমরা যখনি কাউকে আঘাত করি তখন আসলে নিজেকেই নিজেকে আঘাত করি| মানুষের প্রতি দেখানো ভালোবাসা আসলে আমরা আমাদের প্রতিই দেখানো অনুভুতি|পৃথিবীতে জন্ম নেয়া প্রতিটি মানুষের সব সুখ আর দুঃখের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এক সময় আমাদের সবার যেতে হবে|
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/১৩/১৩

আমার মা ও মা'কে

আমার মা'কে নিয়ে কিছু লিখতে গেলেই মনে পড়ে সেই ছেলেটির কথা, যে নাকি তার প্রিয়তমাকে উপহার দেবে বলে মা'র হৃৎপিন্ডটা ছিঁড়ে নিয়ে প্রিয়তমার কাছে দৌঁড়ে যাচ্ছিলো, হঠাত্‍ পথে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে মা'র হৃৎপিন্ড বলে ওঠে - "বাবা, ব্যথা পেলি?" প্রিয়তমার কাছে উপহার বেশি কিন্তু মা'র কাছে সব তুচ্ছ তার সন্তানের তুলনায়।

একবার এক বড় ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, 'বল তো, মানুষ ব্যথা পেলে ও-মা বলে চিত্‍কার দিয়ে ওঠে কেন?' কিছুক্ষণ ভাবার পরও যখন যুত্‍সই উত্তর দিতে পারলাম না, ভাই উত্তর দিল যে, সেসময় 'মা' ডাকার কারণেই অর্ধেক ব্যথা নাকি কমে যায়। আসলে, বিপদে পড়লে আমাদের মায়ের কথা আগে মনে পড়ে যায় কারণ হচ্ছে, সেই সময় ব্যক্তিটি তার নির্ভরতাকে খুঁজে পেতে চায়। তার বয়স যতই বাড়ুক, বিপদে অস্তিত্ব সংকটে তার শৈশবের সেই পরম নিশ্চিন্তির বুকে মুখ ঢাকতে চায়।

আমার মা থেকে আমি অনেক দূরে থাকি। মা থাকে তার জগতে। তবুও প্রতিদিন কোন এক অবসরে কিংবা একাকিত্ব অথবা উত্‍সবের ফাঁকে মাকে মনে পড়ে যায়। মায়ের হাতের আদর পেতে ইচ্ছে করে। তার আঁচলের ছায়ায় মুখ লুকাতে মন চায়। কোলে মাথা রেখে নিশ্চিন্ত হতে সাধ জাগে। যে কয়দিন শ্বাস আছে ততোদিন আমার মা আমার নিশ্বাসের সাথে বয়ে বেড়াতে থাকবে।

মা থেকে অনেক দূরে চলে আসার পর যে মানুষটি মায়ের আদর ছায়া স্নেহ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিয়ে আগলে রেখেছিলেন তিনি লিজা আপু। মাকে যেমন নিশ্বাসের সাথে বয়ে বেড়াচ্ছি, বেড়াব আমৃত্যু; তেমনি এই মহীয়ষী মহিলাকে বয়ে বেড়াব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ পর্যন্ত। নাহলে, মাতৃহত্যা পাপে মহাপাতকী হয়ে মরতে হবে আমাকে। একজন মানুষ কত রঙে কত ভাবে মমতা স্নেহ দায়িত্বে নিয়ে আবেগ দিয়ে যে ভালোবাসা দিতে পারে, তা এই লিজা আপাকে না দেখলে তাঁর সান্নিধ্যে না আসলে কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। মায়ের বিকল্প অন্য কেউ হতে পারে না, কিন্তু আমার এই ধারণা উনি পাল্টিয়ে দিয়েছেন। আজ তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে; আজকের বিশ্ব মা দিবসে তাঁকে খুব মিস করছি। অন্তর থেকে রইল হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা।

মা- তুমি আমার প্রথম ও শেষ ভালবাসা। পৃথিবীতে শুধুমাত্র মমতায় গড়া একমাত্র নির্ভরশীল যে কোল সে শুধু তোমার। তোমার উষ্ণতার পরশে সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে চায় মন। মা তোমাকে ঘিরে জমা আমার সব ভালবাসা, ভালোলাগা আর সব অভিমান। তোমরাই আমার বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা। তোমাদের ভালোবাসার ছলে পৃথিবীর সকল মাকে জানাই আন্তরিক ভালোবাসা।

মা, তোমরা ক্ষমা করো ঐসব কৃতঘ্নদের, যারা মায়েদের বৃদ্ধাশ্রম নামক অনাত্মীয় কুঠুরিতে নিক্ষেপ করে আসে।- আমার মা ও মা'কে।
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/১২/১৩

আমার মা

আমার মা আমাদের মা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মা| পৃথিবীতে যার কোনো তুলনা নেই| প্রতিদিন যার ভালবাসা, স্নেহ-মমতা নিয়ে শুরু হয় আবার তার ভালবাসা দিয়েই শেষ হয় দিন| মা তুমি আমার প্রথম ও শেষ ভালবাসা|
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/১২/২০১৩

শব্দচয়নে উদাসীনতা

অবহেলা বা শব্দচয়নে উদাসীনতা সময়কে পরিহার করা উচিৎ। কারণ যে সময়টা চলে যায় তা আর কখনো ফিরে আসে না।
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/১১/১৩

সাম্প্রতিক সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রেস মিডিয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা উচিত্‍


একটা কথা ইদানীং প্রায়ই শোনা যায় তা হচ্ছে, পৃথিবী অনেক ছোটো হয়ে আসছে। কেননা এই স্যাটালাইটের যুগে পৃথিবীর এক প্রান্তে কিছু ঘটামাত্র অপরপ্রান্তের টিভি স্কিনে লাইভ দেখা সম্ভব হয়ে গেছে; শুধু ঘটনা দর্শন করিয়েই ক্ষ্যান্ত নয় মিডিয়া, তথ্যপ্রচার বিচার বিশ্লেষণ ইত্যাদির যাঁতাকলে সমস্ত ঘটনাই মনে হয় আমাদের চোখের সামনে ঘটছে; ঘটনার শাঁস সুদ্ধ গিলিয়ে খাওয়ানোর কাজটা মিডিয়া চমত্‍কারভাবেই করে থাকে। প্রিন্ট মিডিয়াগুলো সাথে সাথে সংবাদটি অবগত করতে না পারলেও, সংবাদটিকে কাগজের বুকে স্থায়ী করে রাখে। থাকে বিজ্ঞ বিশ্লেষণ আলোচনা সমালোচনা। তাই মিডিয়ার প্রতি মানুষের যে অন্ধ একটা বিশ্বাস জন্মে গেছে তা অস্বীকার করার কিছু নেই। তারা যখন যা ই প্রচার করে মানুষ প্রাথমিকভাবে বিচার ছাড়াই তা বিশ্বাস করে ফেলে। এই সুযোগে মিডিয়ায় জন্ম নিয়েছে হলুদ সাংবাদিকতা। তারা বিশেষ মহলের নির্দেশে বিশেষ স্বার্থে যেকোনো ইস্যুতে চারদিকে প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে তাদের স্বার্থ উদ্ধার করে। তাদের প্রচারিত খবরগুলো মিডিয়ায় আসার পর একদল অসচেতন নাগরিক সেগুলো যাচাই বাছাই ছাড়াই গিলে ফেলে; ফলে দেশের বিরাট এক অসচেতন গোষ্ঠি এইসব প্রপাগান্ডা সত্য মনে করে ঐসব স্বার্থোন্বেষি মিডিয়াগোষ্ঠীর ফাঁদে পা দেয়। উদাহরণ স্বরূপ, দিগন্ত টিভি নয়াদিগন্ত আমার দেশ পত্রিকা জামাতিদের মুখপত্র হবার কারণে লাগাতার মিথ্যে বানোয়াট তথ্য পরিবেশ করে দেশের মানুষের মাঝে স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী বীজ বপন করে যাচ্ছে ফলে দেশে স্বাধীনতা চেতনাবিরোধী চেতনা শক্তিশালী হয়ে ওঠছে। তাদের ফাঁদে পা দিয়ে দেশে অসচেতন অর্ধশিক্ষিত অশিক্ষিত জনগণ দেশবিরোধী যেকোনো চেতনা অন্তরে ধারণ করে বেড়ে ওঠছে এবং বয়স্করা তরুণদের মাঝে ঐ বীজ বপনে সহযোগিতা করছে। যেহেতু সত্য মিথ্যে যাচাই করার মত বিবেক শিক্ষা সচেতনতা দেশের এইসব জনগণের নেই সুতরাং সরকারের উচিত্‍ একটা মনিটরিং বোর্ড গঠন করে সংবাদমাধ্যমটি নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে ক্ষতিকর তথ্য দেশে ছড়াতে না পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যে সহিংসতা অরাজকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে তার জন্য দায়ী গণমাধ্যমগুলো।
যুদ্ধোপরাধীদের ফাঁসির দাবি বাংলার প্রাণের দাবি। বর্তমান সময়ে বিচারের আওতাধীন অপরাধীরা দাগি চিহ্নিত অপরাধী। অথচ কাদের মোল্লার ফাঁসির বদলে যাবজ্জীবন রায় হলে সংক্ষুদ্ধ দেশপ্রেমিক তরুণেরা রাস্তায় নেমে আসে এবং শাহবাগে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য অবস্থান নিলে দিগন্ত টিভি আমার দেশ সহ জামাতি ঘরানার পত্রিকা এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু এবং শাহবাগে অবস্থানরত তরুণ তরুণীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কাল্পনিক অভিযোগ উত্থাপন করে তা প্রচার করতে থাকে। প্রথমে এই আন্দোলনকে সবাই যাতে গুরুত্ব না দ্যায় তার জন্য এটাকে আওয়ামী লীগের নাটক বলে প্রচার করতে লাগল। কিন্তু পরবর্তীতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ দেখে ভয় পেয়ে তরুণ তরুণীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে বানোয়াট তথ্য প্রচার করতে লাগল। ফটোশপে ছবি এডিট করে প্রচার করতে লাগল যে শাহবাগের তরুণ তরুণেরা নষ্ট প্রজন্মের সংস্কৃতিহীন প্রতিনিধি! যেমনঃ
* শাহবাগীরা নাস্তিক, যেন যুদ্ধোপরাধীদের বিচার চাওয়া মানেই নাস্তিকতা।
* তারা ঐখানে সারা রাত ড্রাগস নেয়
* ছেলে মেয়ে একসাথে অবস্থান করার কারণে তারা নিশ্চয় শারীরিকভাবেও মিলিত হয়!
* তারা ইসলাম বিদ্বেষী
* তারা আওয়ামী লীগের পেইড দালাল!
* টাকা আর খাবার ছড়িয়ে আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে!

এইসব প্রপাগান্ডা ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার পাশাপাশি ফেইজবুকে 'বাঁশেরকেল্লা'র মত পেইড পেইজগুলোও কম দায়ী নয়। তাদের এইসব প্রপাগান্ডা ছড়ানোর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, যাতে মানুষ ভাবতে পারে, শাহবাগে যারা অবস্থান করছে এবং তাদের এই আন্দোলনটা আসলে- উচ্ছ্বন্নে যাওয়া বখাটে বিবেকহীন মাতাল নষ্ট তরুণ তরুণীদের ইতরামি বৈ কিছু না! দেশের মানুষদের উচিত্‍ সেটাকে সাপোর্ট না দিয়ে বরং কঠোরভাবে প্রতিহত করা...
ফলে, দেশে অনেক ধর্মবিশ্বাসী অসচেতন আর অশিক্ষিত লোকেরা এগুলো সত্য মনে করে শাহবাগের উপর থেকে তাদের সমর্থন তুলে নেয় এবং শাহবাগের তরুণ তরুণীদের দিকে বাঁকা দৃষ্টিতে তাকাতে থাকে। দেশে যে অংশটি ধর্মপ্রাণ কিন্তু এইসব ব্যাপারে নীরব ছিল তাদের মাঝে জঙ্গিবাদ উস্কে দিয়ে সারাদেশে তান্ডব চালাতে থাকে এবং জন্ম নেয় 'হেফাজতে ইসলাম' নামক ভূঁইফোড় সংগঠন। তারা জামাত শিবিরের সহায়তায় সারা ঢাকায় যে তান্ডব চালায় তার দাগ আজো শুকোয়নি। এইসবের পূর্ণ সুযোগ নিয়েছে জামাত-বিএনপি। চট্টগ্রাম সহ কয়েক জায়গায় অসহায় সংখ্যালুঘদের উপর তাদের পাশবিক আচরণ তাদেরকে উদ্বাস্তু নিঃস করে দিয়েছে।

"মায়ের লাঞ্ছিত বুকে শকুন নখের দাগ...
কে পেরেছে ভুলে যেতে কবে?
ধর্ষিতা বোনটির বিভীষিকা মাখা চোখ আমায় জাগিয়ে রাখে, ডেকে বলে,
মনে রেখো এদিনের শোধ নিতে হবে!!
যদি বল ঘৃনাবাদী, দ্বিধাহীন মেনে নেব তাও..."

তাই সরকারের উচিত্‍ সংবাদ মাধ্যমগুলোর নিয়ন্ত্রণ রাখা। মনিটরিং কমিটি গঠন করে প্রেস মিডিয়াকে মনিটর করা এবং সে মত কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া। এইখানে 'নিরপেক্ষতা' ব্যাপারটিকে ইগনোর করে কঠোর হস্তে সকল প্রকার প্রপাগান্ডা দমন করতে হবে। মনে রাখা উচিত্‍,
"ন্যায় এবং অন্যায়, দুইটার মধ্যে মাঝামাঝি কোন অবস্থান বলে কিছু নাই। মাঝামাঝি থাকা মানেই অন্যায়কে সাপোর্ট করা। নদীর দুইপারের যেকোন একপারেই আপনাকে থাকতে হবে, মাঝামাঝি থাকতে চাইলে হয় ডুবে যাবেন, অথবা ভাসতে ভাসতে যেকোন একপারেই আবার ভিড়বেন।"

তবে, সহিংসতা এড়াতে এবং স্বাধীনতার চেতনাবিরোধীকে প্রতিহত করতে সরকার যেন সকল প্রকার সমালোচনার গলা টিপে না ধরে এই দিকেও খেয়াল দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। তাহলে হিতে বিপরীত হবে। মুক্তকন্ঠের আওয়াজ রোধ করা স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী। সবকিছুর সমালোচনা থাকতে পারে, এটাই স্বাভাবিক। মনে রাখতে হবে, প্রপাগান্ডা আর সমালোচনা এক জিনিস নয়।

চাঁদে গ্রহণ লেগেছে

কি ঘুটঘুটে অন্ধকার| জানলার বাহিরে তাকিয়ে মনে হচ্ছে চাঁদে গ্রহণ লেগেছে| কি যেন হঠাত খুব জোরে দৌড়ে চলে গেল| অনেক দেখার চেষ্টা করেও দেখতে পেলামনা| আসলে রাত যত গভীর হয় আশেপাশের শব্দ গুলোও তত স্পষ্ট হয়| পার্কের ওপারে ঝাকড়া ইউকেলিপটাস গাছটার ওপারে জমাটবাধা অন্ধকার আরো গভীরতর হচ্ছে| একটা চিঠি দিয়ে গিয়েছিলো ডাকপিওন সেই কবে| এখনো ডাকবাক্সে খামটি পরে আছে অযত্নে| কখনো কি খুলে পত্রলেখকের পত্রের প্রারম্ভ কথা আর ইতিকথা জানা হবে? ভালবাসার ইতিকথা জানার প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্বেও খামটি পড়ে রয় অযত্নে অবহেলায়|
 

কতশত কথা লিখে যাই মাঝে মাঝে তারাও অযত্নে পড়ে থাকে ডায়রির কোনে| ধুলোয় ভরে আছে কালো ডায়েরিত| কলমের কলি ফুরিয়ে গিয়ে আজ আর লিখা হয়না| কত কি ভেবে ভেবে হঠাত ভাবি কে এই আমি? আমি ভেতর ও বাইরের মাঝে ঝুলে থাকা খন্ডবৈচিত্রের উত্সর্গ কাগজের টুকরো?
 

-অপরিচিত মানবী
০৫/১০/১৩