প্রিয় প্রিয়তম,
বাসে কিংবা ট্রেনে করে কাজে যাওয়ার সময় চারপাশের হাসিখুশি উচ্ছ্বল মানুষগুলো দিকে মাঝে মাঝে নিষ্পলক তাকিয়ে থাকি। হরহর করে একটানা বকে যাওয়া এই মানুষগুলো তাদের ভেতরের আনন্দ বেদনা হতাশা রাগ অনুরাগ- প্রকাশ করার পর তাদের চোখে মুখে তৃপ্তির আর ভারমুক্ত হওয়ার যে আনন্দ খেলে বেড়ায়, তাতে আমার হিংসাও হয় বটে। কী অবলীলায়, তারা তাদের মনের গহীনে জমে ওঠে কথাগুলো উগড়ে দিচ্ছে কিংবা, হয়তো কথাগুলো জমে ওঠার সময়ই পায় না; আমি পারি না। প্রতিদিনের প্রতিটা মুহূর্তের অনুভবে যে না বলা অনুভূতিগুলো একে একে জমা পড়ছে, তা আজো তোমাকে বলা হলো না। বলা হয় না হয়তো, কোনোদিন হবে কিনা তাতেই আজ আমি বড়ো সন্দিহান।
কতশত রাত একলা জানালার ধারে বসে শুধু দূর বাড়ির আবছা অন্ধকার দেখেছি! কিংবা কিছুই দেখি নি- একদৃষ্টিতে বাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে থেকেছি। কখনো কখনো আমার মনের ভেতর খেলে যাওয়া ভাবনা আমিই ধরতে পারি না ঠিকমত, শুধু তার হেঁটে যাওয়ার পদশব্দ শুনতে পাই। তারপর একসময় দূর থেকে দূরে কোন পথ থেকে কোন পথে যে হারিয়ে যায়- অধরা সেই বোধটাকে খুঁজে পাই না। অথচ, না বলা ভাবনা কথাগুলো তোমাকে না বলতে পারার বেদনায় আমি ভেতরে ভেতরে নীল হয়ে যাই।
অথচ, এযেন আমার এক জীবন দন্ডিত অনিবার্য শাস্তি, যে শাস্তি, আমাকে বাধ্য করে তাকে সঙ্গে করে নিয়ে বয়ে বেড়াতে। যেখানেই যাই- আমাকে এই শাস্তি বয়ে বেড়াতে হয়। মেঘলা আকাশের দিকে মাঝে মাঝে মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকি, তন্ময় হয়ে খুঁজতে থাকি মেঘের তলে হারিয়ে যাওয়া চাঁদটাকে। নাহ, খুঁজে পাই না। যেন, ঠিক আমার মতই মনের কথা কাউকে বলতে না পেরে লজ্জায় বেদনায় মেঘের আঁচলে মুখ লুকিয়ে আছে। তার অপরূপ জোছনা মেঘের শাড়ির বুকেই আছড়ে পড়ে, আমি খুঁজে পাই না। আমার সমব্যথী পেয়ে সারা রাত লুকিয়ে থাকা চাঁদটার সাথে গল্প করে যাই। চাঁদ হয়তো শোনে, হয়তো শোনে না- কিংবা আমি ভুলেই যাই চাঁদেরও তো ঘুম যাওয়ার প্রয়োজন আছে! তবুও আমি বলে যাই। তোমাকে তো বলতে পারি না।
আমি আজো আমার না বলা কথাগুলো নিজের ভেতর বয়ে বেড়াচ্ছি। বয়ে বেড়াতে বেড়াতে ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে গেছি। একদিন হয়তো জলার ধারে যাব একা একা, গিয়ে জলের উপর পড়া আমার কাঁপা কাঁপা প্রতিচ্ছবিকেই সঙ্গী করে বলে যাব তোমাকে না বলতে পারা আমার সমস্ত কথাগুলো... নাহলে মনের গহীনে গুমড়ে বেড়ানো ভাবনাগুলো কথা হয়ে মুখ ফুটে বেরোবার জন্য যে রক্তাক্ত যুদ্ধ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত, তা আমাকে তিলে তিলে মেরে ফেলছে। নাহয় একদিন সেই জলের কাছে কথাগুলো বিসর্জন দেবার পর আমি আমাকেও বিসর্জন দিলাম; মন্দ নয় ব্যাপারটা মোটেও- তবুও আমি মুক্তি চাই।
ইতি-
তোমার তোমারি।
-অপরিচিত মানবী
বাসে কিংবা ট্রেনে করে কাজে যাওয়ার সময় চারপাশের হাসিখুশি উচ্ছ্বল মানুষগুলো দিকে মাঝে মাঝে নিষ্পলক তাকিয়ে থাকি। হরহর করে একটানা বকে যাওয়া এই মানুষগুলো তাদের ভেতরের আনন্দ বেদনা হতাশা রাগ অনুরাগ- প্রকাশ করার পর তাদের চোখে মুখে তৃপ্তির আর ভারমুক্ত হওয়ার যে আনন্দ খেলে বেড়ায়, তাতে আমার হিংসাও হয় বটে। কী অবলীলায়, তারা তাদের মনের গহীনে জমে ওঠে কথাগুলো উগড়ে দিচ্ছে কিংবা, হয়তো কথাগুলো জমে ওঠার সময়ই পায় না; আমি পারি না। প্রতিদিনের প্রতিটা মুহূর্তের অনুভবে যে না বলা অনুভূতিগুলো একে একে জমা পড়ছে, তা আজো তোমাকে বলা হলো না। বলা হয় না হয়তো, কোনোদিন হবে কিনা তাতেই আজ আমি বড়ো সন্দিহান।
কতশত রাত একলা জানালার ধারে বসে শুধু দূর বাড়ির আবছা অন্ধকার দেখেছি! কিংবা কিছুই দেখি নি- একদৃষ্টিতে বাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে থেকেছি। কখনো কখনো আমার মনের ভেতর খেলে যাওয়া ভাবনা আমিই ধরতে পারি না ঠিকমত, শুধু তার হেঁটে যাওয়ার পদশব্দ শুনতে পাই। তারপর একসময় দূর থেকে দূরে কোন পথ থেকে কোন পথে যে হারিয়ে যায়- অধরা সেই বোধটাকে খুঁজে পাই না। অথচ, না বলা ভাবনা কথাগুলো তোমাকে না বলতে পারার বেদনায় আমি ভেতরে ভেতরে নীল হয়ে যাই।
অথচ, এযেন আমার এক জীবন দন্ডিত অনিবার্য শাস্তি, যে শাস্তি, আমাকে বাধ্য করে তাকে সঙ্গে করে নিয়ে বয়ে বেড়াতে। যেখানেই যাই- আমাকে এই শাস্তি বয়ে বেড়াতে হয়। মেঘলা আকাশের দিকে মাঝে মাঝে মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকি, তন্ময় হয়ে খুঁজতে থাকি মেঘের তলে হারিয়ে যাওয়া চাঁদটাকে। নাহ, খুঁজে পাই না। যেন, ঠিক আমার মতই মনের কথা কাউকে বলতে না পেরে লজ্জায় বেদনায় মেঘের আঁচলে মুখ লুকিয়ে আছে। তার অপরূপ জোছনা মেঘের শাড়ির বুকেই আছড়ে পড়ে, আমি খুঁজে পাই না। আমার সমব্যথী পেয়ে সারা রাত লুকিয়ে থাকা চাঁদটার সাথে গল্প করে যাই। চাঁদ হয়তো শোনে, হয়তো শোনে না- কিংবা আমি ভুলেই যাই চাঁদেরও তো ঘুম যাওয়ার প্রয়োজন আছে! তবুও আমি বলে যাই। তোমাকে তো বলতে পারি না।
আমি আজো আমার না বলা কথাগুলো নিজের ভেতর বয়ে বেড়াচ্ছি। বয়ে বেড়াতে বেড়াতে ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে গেছি। একদিন হয়তো জলার ধারে যাব একা একা, গিয়ে জলের উপর পড়া আমার কাঁপা কাঁপা প্রতিচ্ছবিকেই সঙ্গী করে বলে যাব তোমাকে না বলতে পারা আমার সমস্ত কথাগুলো... নাহলে মনের গহীনে গুমড়ে বেড়ানো ভাবনাগুলো কথা হয়ে মুখ ফুটে বেরোবার জন্য যে রক্তাক্ত যুদ্ধ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত, তা আমাকে তিলে তিলে মেরে ফেলছে। নাহয় একদিন সেই জলের কাছে কথাগুলো বিসর্জন দেবার পর আমি আমাকেও বিসর্জন দিলাম; মন্দ নয় ব্যাপারটা মোটেও- তবুও আমি মুক্তি চাই।
ইতি-
তোমার তোমারি।
-অপরিচিত মানবী
No comments:
Post a Comment